
পর্ব ৩
২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে মুন্সিগঞ্জে সংগঠিত করায় তার ভূমিকা ছিল অনন্য।তার এই ধরনের ভূমিকাকে মূল্যায়নে বলা যায় সে একজন অপারেশনাল লিডার হিসেবে কাজ করেছেন।সেই সময়ের ঘটনার বিবরণ দিয়ে জুলাইযোদ্ধা জেলা জুলাই মঞ্চের সভাপতি রায়হান রাব্বি তার ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে লিখেছিলেন
” ২৪ এর গনঅভ্যুত্থানে মুন্সীগঞ্জের সাধারণ ছাত্ররা ১৬ জুলাই যখন ছাত্রলীগ দ্বারা নির্যাতিত হলো তার পর থেকেই মুন্সীগঞ্জ থেকে এই রানা ভাই ছাত্রদল, যুবদল সহ বিএনপি এবং সাধারণ ছাত্রদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সবাইকে যুক্ত করেছে এবং সবাইকে সাধারণ ছাত্রদের পাশে থাকার জন্য সবথেকে বেশি কাজ করেছেন গোপনে। ৪ আগষ্টের আগেই আমি সেই গ্রুপে যুক্ত হই এবং জানার চেষ্টা করি সেই গ্রুপের এডমিন কে। তারপর হোয়াটসঅ্যাপে বিদেশি একটি নাম্বার থেকে কল আসে এবং আমাকে বলে আমি রানা ভাই,
নিজেকে হাইড করে সবাইকে সাপোর্ট দেয়ার চেষ্টা করছি। আমি তখন অনেকটা ভরসা পেলাম কারন আমি আগে থেকেই জানতাম রানা ভাই একজন বিচক্ষণ মানুষ। রানা ভাই আমাকে তার পরিকল্পনা জানায় এবং আমিও আমার পরিকল্পনা শেয়ার করি। তারপর ফাইনালি ৪ আগষ্ট এই রানা ভাইয়ের নেতৃত্বেই হাজার হাজার মানুষ আন্দোলনে যুক্ত হয় এবং আমরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সারাদিন লড়াই চালিয়ে যাই।
তারপর ফ্যাসিস্ট যখন দেশত্যাগ করলো, সাধারণ ছাত্ররা ট্রাফিক থেকে শুরু করে শহর পরিষ্কার করা এসকল জায়গায় রানা ভাইয়ের সহযোগিতা ছিল এবং বিগত ১৬/১৭ মাসে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন পোগ্রাম থেকে শুরু করে সাধারণ ছাত্রদের প্রায় সকল আবদার এই রানা ভাই পূরন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।লেখা দীর্ঘ হয়ে যাবে তাই মাসুদ রানাকে নিয়ে জুলাই আন্দোলনের জুলাই যোদ্ধাদের মন্তব্য তুলে ধরা সম্ভব হলোনা।শুধু একটা কথাই বলতে পারি প্রতিটি জুলাইযোদ্ধা তাকে আলাদাভাবে সম্মান করে, শ্রদ্ধা করে।
একজন রাজনৈতিক নেতার প্রভাব কেবল তার দলীয় কর্মসূচির ওপর নির্ভর করে না, বরং সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতা কতটুকু তার ওপরও নির্ভর করে। মুহাম্মদ মাসুদ রানা এই সত্যটি অনুধাবন করেছিলেন। তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘নাগরিক বন্ধু’-র আহ্বায়ক হিসেবে মুন্সিগঞ্জে ব্যাপক সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন ।আশ্রয় কেন্দ্রের স্বপ্নজয়ী পাঠশালার শিক্ষার্থীদের তিনি নানাভাবে সহযোগিতা করে এসেছেন।তাদের যেকোন প্রয়োজনে পাশে থেকেছেন।
শহরকে গ্রীনসিটিতে রূপ দিতে নিয়মিতই তিনি বৃক্ষরোপন করে যাচ্ছেন এবং তা পরিচর্যাও করছেন।প্রায় হাজারখানিক গাছ ইতিমধ্যে তিনি রোপন করেছেন, এখনো এই কার্যক্রম করছেন।
কিশোরগ্যাং ও ইভটিজিং প্রতিরোধ এবং সচেতনতাবৃদ্ধিতে কিশোরদের নিয়ে মুক্তমঞ্চটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় তার উদ্যোগেই।এবং এই মুক্ত মঞ্চেই একটি কিশোর কনসার্ট আয়োজন করে তিনি কিশোরদের প্রতি আহবান জানান কেউ যেন গ্যাং না হয়ে উঠে সবাইকে কিশোর হিসেবে সুস্থভাবে বেড়ে উঠার অনুরোধ জানান।
খেলাধূলার বিকাশে তার অসামান্য ভূমিকা রয়েছে।সে নিজেও একজন সাবেক ক্রিকেটার ছিলেন।জেলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হিসেবে সফল ক্রিকেটার ছিলেন।তার সময়ে যারা তাকে চিনে তারা সবাই একবাক্যে এটা মেনে নিবে মাসুদ রানা জাতীয় দলে খেলার মত একজন সম্ভবনাময় ক্রিকেটার ছিলেন।পায়ের ইঞ্জুরির কারনে তাকে থেমে যেতে হয়েছিল।তবে খেলাধূলা তার মন মস্তিষ্কে আলাদাভাবে মিশে ছিল।খেলার মাঠের সংকট থাকায় খেলাধূলার বিকাশে পরিত্যাক্ত জায়গাকে পরিস্কার করে খেলার মাঠ নির্মান করে দেন, গ্রামে গ্রামে খেলাধূলার বিকাশে নানা আয়োজনের মাধ্যমে যুবকদের খেলাধূলায় উৎসাহিত করার ভূমিকা রাখেন।ক্রিকেটারদের জন্য একটা প্রাকটিস ইনডোর করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
তিনি বিত্তবান কোন মানুষ নন, তবুও যখনি কেউ সহযোগিতা চেয়েছে যেকোন জনদূর্ভোগ লাগবে নিজ অর্থায়নে তিনি তা করেছেন।
🤝মুন্সির হাট থেকে চরমশুরা যেতে ভাঙা রাস্তাটি সে রাস্তা দিয়ে মানুষের যাতায়াতের মারাত্মক সমস্যায়।পড়তে হতো।তিনি জানতে পেরে সে রাস্তাটি মেরামত করে দেন।সে এলাকাতে সনাতম ধর্মের মানুষদের মন্দিরের রাস্তাটি ভেঙে গিয়েছিল। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছিল না।তিনি তা মেরামত করার ব্যবস্থা করেছিলেন।
🤝শহরের ময়লা আবর্জনা ফেলার স্থানে দূর্গন্ধ জনজীবনে দূর্ভোগ সৃষ্টি করছিল, সেই দূর্ভোগ কমাতে বাশের বেড়া দিয়ে ব্লাকপেপারে দেয়াল করে দেয়া হয় যাতে গন্ধ বাতাসে ভেসে না আসে।
🤝এলাকায় এলাকায় চাদাবাজ দমন করায় ভূমিকা পালন করেন।যেখানেই চাদাবাজির কথা শুনা যেত সেখানেই তাদের প্রতিরোধ করা হতো।
🤝সনাতন ধর্মের মানুষদের জানমালের নিরাপত্তায় তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে এসেছেন, তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা দিয়েছেন।
🤝বেড়ীবাধ এলাকায় ১কিলোমিটার জুড়ে আলোর ব্যবস্থা করে দেন নিজ উদ্যোগে।
🤝শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে রাস্তার পাশে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করে সেখানে ফুলের গাছ লাগিয়ে পথবাগান করে দেন যেন আর কেউ ময়লা না ফেলে।
🤝হাসপাতালের পানি জমে ময়লা আবর্জনায় এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল।সে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করেন নিজ উদ্যোগে।এবং হাসপাতালে ফুলের গাছ লাগিয়ে দেয়া হয় পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য।
🤝কিশোরগ্যাং ও ধর্ষন প্রতিরোধে সচেতনতা গড়ে তুলতে লোক সংগীতের কনসার্ট আয়োজন করা হয় কিশোর যুবকদের নিয়ে।
🤝পৌর করবৃদ্ধির প্রতিবাদে স্মারকলিপি প্রদান করেন জেলা প্রশাসকের কাছে, সমাধান না পেয়ে বৃষ্টিতে ভিজে মানববন্ধন করা হয়।তাতেও আলোচনায় না বসলে অবস্থান কর্মসূচীর ঘোষনা দিলে প্রশাসক করবৃদ্ধি সহনশীল করার পক্ষে আশ্বাস দেন।যে আলোচনা এখনো চলমান।
🤝২০২৬ সালের এপ্রিলে তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং নাগরিক বন্ধু-র ব্যানারে মুন্সিগঞ্জের খালইস্ট এলাকায় একটি বিশাল ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয় । সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা এই ক্যাম্পে প্রায় ৫০০ জন সাধারণ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়। ক্যাম্পে ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় এবং ডায়াবেটিস পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবার ব্যবস্থা ছিল । এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে তার একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই কেবল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দিয়ে অর্জন করা সম্ভব নয়।
রাজনীতির বাইরেও তিনি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সরব থাকেন। বাংলা নববর্ষ উদযাপনে তার অংশগ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় তাকে একজন জনবান্ধব নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে । তার এই সামাজিক পরিচিতি রাজনৈতিক সংকটের সময়েও তাকে জনগণের কাছাকাছি থাকতে সাহায্য করেছে। চলবে…
