
ছাত্রদলের সফল অধ্যায় শেষ করে তিনি যুবদলের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ২০১৭সালে জেলা যুবদলের ১নং সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে তার দায়িত্ব পালন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে । ফলশ্রুতিতে, ২০২২ সালের ১৬ মার্চ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি মুন্সিগঞ্জ জেলা যুবদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে, যেখানে মজিবুর রহমান দেওয়ানকে আহ্বায়ক এবং মুহাম্মদ মাসুদ রানাকে সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত করা হয় ।
সদস্য সচিব হিসেবে মুন্সিগঞ্জ জেলা যুবদলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি গতিশীল সংগঠনে পরিনত করেন।তিনি এমন এক সময় জেলা যুবদলের নেতৃত্ব দেন যে সময়টা হাসিনা স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদ গ্রাস করে নিয়েছিল।তেমন এক কঠিন দু:সময়ে জেলা যুবদলকে আন্দোলনে সংগ্রামে সক্রিয় রাখায় অনন্য এক অবদান রেখেছিলেন মাসুদ রানা।
মুন্সিগঞ্জ সদর অঞ্চলে আন্দোলন সংগ্রাম করতে যেয়ে অসংখ্য মামলার আসামি হতে হয় তাকে।হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়, পুলিশের নির্যাতনের শিকার হোন, তবুও রাজপথ থেকে সরে যাননি, থেমে জাননি, পরিস্থিতি যেমনি হোক মাসুদ রানা সে পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে লড়েছিলেন যা আর দ্বিতীয় কাউকে দেখা যায়নি।যখন কেউ ছিলো না যে দলের কর্মসূচী রাজপথে দাড়িয়ে পালন করার মতো তখন মাসুদ রানা জীবনের ঝুকি নিয়ে দলের সে কর্মসূচী পালন করে গেছেন।
এই আপোসহীন সংগ্রামী চেতনা তাকে তৃনমূলে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলে।দল মত নির্বিশেষে সকল মানুষের কাছে প্রিয় একজন মানুষ হয়ে উঠেছিলেন।
“রাজপথের সংগ্রাম ও জনপ্রিয়তার ভিত্তি বিশ্লেষণ”
মুন্সিগঞ্জের রাজনীতিতে মাসুদ রানার জনপ্রিয়তার একটি প্রধান কারণ হলো প্রতিকূল সময়ে রাজপথে তার সক্রিয় উপস্থিতি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতা যখন গ্রেপ্তার বা আত্মগোপনে ছিলেন, তখন মাসুদ রানা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিগুলো সফল করেছেন । ২০২৩ সালের তার নেতৃত্বাধীন অবরোধ কর্মসূচিতে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। শহরের জুবলী রোডে টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তায় বেরিকেড সৃষ্টি করা এবং মশাল হাতে মিছিলের মাধ্যমে তিনি দলীয় কর্মীদের সক্রিয় রেখেছিলেন ।
তার জনপ্রিয়তাকে তৃণমূল কর্মীরা কীভাবে দেখেন, তার একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায় স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে। তাকে “রাজপথের রানা ভাই” এবং “ছাত্রদল কর্মীদের চোখে “ভালোবাসার আরেক নাম” হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে । কর্মীদের সাথে তার সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং আত্মিক। তিনি এমন একজন নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যিনি বিপদে কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে কুন্ঠিত হন না । তৎকালীন জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই এবং অন্যান্য প্রবীণ নেতারাও তার এই আপোষহীন নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন ।
মাসুদ রানার জনপ্রিয়তা কেবল দলের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়। একজন তরুণ নেতা হিসেবে তিনি মুন্সিগঞ্জের সাধারণ মানুষের মধ্যেও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। তার রাজনৈতিক দর্শনের মূলে রয়েছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্ব । এই আদর্শিক দৃঢ়তা তাকে তরুণ প্রজন্মের কাছে একটি অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
২০১৬ সালে আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখার কারনে বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরাসরি তাকে ফোন করে সার্বিক খোজখবর নিয়েছিলেন।দলের একজন সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতা যখন মাঠপার্যায়ের কোন নেতাকর্মীকে ফোন দিয়ে খোজখনর নেন তখন বুঝতে বাকি থাকেনা দলের জন্য তার কার্যক্রম কতটা শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছিল।
২০২৪সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিলে বিএনপি হরতাল অবরোধের ডাক দেয়।সে হরতাল অবরোধে মুন্সিগঞ্জ জেলার মধ্যে মাসুদ রানা প্রতিটি অবরোধ হরতালে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল। তার এমন সক্রিয়তা দমন করতে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে রেড এলার্ড জারি করে। এবং জীবিত না হোক মৃত হলেও গ্রেফতারের নির্দেশ প্রদান করা হয়।আইনশৃঙ্খলাবাহিনী এমন হার্ডলাইনে থাকার পরেও সে রাজপথে মশাল নিয়ে মিছিল করেছে মৃত্যুর ঝুকি উপেক্ষা করে।
তার এই অদম্য সাহসিকতা বিএনপির তরুন নেতাকর্মীদের উদ্ভুদ্ধ করে আন্দোলনে সক্রিয় করে তুলে।১/১১এর পর থেকে টানা আন্দোলন সংগ্রামে একজন মাসুদ রানাই সর্বাস্থতায় আন্দোলন সংগ্রামে নিয়মিত সক্রিয় থেকেছেন, সর্বাধিক হামলা মামলা নির্যাতন শিকার করেও আপোস করেননি, লড়ে গেছেন জীবনের সবটা দিয়ে।একজন বীরের মতোই তারা সংগ্রাম, রাজপথ সাক্ষী হয়ে আছে।
২০২৩ সালে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে দেশজুড়ে যখন অবরোধ কর্মসূচী চলছিল তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানও তাকে ফোন দিয়ে আন্দোলনের দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন।এই জেলায় একমাত্র মাসুদ রানাই সেই নেতা যিনি বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান দুজনের ফোন কল পেয়েছিলেন।এটা নিঃসন্দেহে তার আগামীর রাজনীতিতে নক্ষত্র হয়ে উঠার পূর্ভাবাস।
চলবে…
”
