বাংলাদেশের স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতির শক্তি ভারসাম্যে ঢাকার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত মুন্সিগঞ্জ জেলার কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। রাজধানী সংলগ্ন এই শিল্প ও কৃষিপ্রধান অঞ্চলের রাজনীতি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ক্ষেত্রে বহু বছর ধরেই এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। এই অঞ্চলে বিরোধী রাজনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখা ও দলীয় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতাদের অবদান অনস্বীকার্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের মুন্সিগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সদস্য সচিব মুহাম্মদ মাসুদ রানা এমনই একজন সংগঠক, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে একটি বলিষ্ঠ ধারা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
মাসুদ রানার রাজনৈতিক জীবনের বিকাশ ঘটে জাতীয়তাবাদী দলীয় ভাবধারার মধ্য দিয়ে। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে স্থানীয় যুবসমাজ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুসংগঠিত করেন। ছাত্র রাজনীতিতে তাঁর এই সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় যুবদল কর্তৃক মুন্সিগঞ্জ জেলা যুবদলের ১ম সহ সভাপতি ২০১৭ সালে এবং পরবর্তীতে ২০২২সালে আহ্বায়ক কমিটি গঠনে তাঁকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের সূচনাতেই তিনি সততা ও দক্ষতার সাথে জেলা যুবদলকে সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও গতিশীল করার দৃঢ় অঙ্গীকার প্রকাশ করেন। বিরোধী দলীয় রাজনীতির ওপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের কঠিন প্রেক্ষাপটে মুন্সিগঞ্জের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকায় যুব সমাজকে একক প্ল্যাটফর্মে আনা এবং সাংগঠনিক সংহতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্বের কৌশল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংগ্রাম, ত্যাগ ও হাইকমান্ডের মূল্যায়ন_
২০০৯ পরবর্তী প্রেক্ষাপটে তৎকালীন শাসকদল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নিষ্পেশন ও প্রশাসনিক কাঠামোর কড়াকড়ির মুখে বিরোধী রাজনীতির টিকে থাকা এক কঠিন চ্যালেঞ্জে রূপ নিয়েছিল। মুন্সিগঞ্জ জেলায় সেই দুঃসময়ে রাজপথের আন্দোলনকে চাঙা রাখতে মাসুদ রানা সম্মুখসারির প্রতিরোধ সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রাজপথের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে মাসুদ রানাকে একাধিকবার রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি, যেমন—হরতাল, অবরোধ, পদযাত্রা ও বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে গিয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডার বাহিনীর সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়, যা তাঁকে বারবার রাজপথ থেকে কারাগারে পাঠাতে ব্যবহৃত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁকে ফেরারী জীবনের যন্ত্রনা সহ্য করতে হয়েছে। শুধু ফেরারী জীবনই নয়, রাজপথে বিরোধী অবস্থান দুর্বল করতে তৎকালীন গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁকে “ক্রসফায়ার” বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মুখোমুখি করার সরাসরি হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল।
◾বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে মাসুদ রানার নেতৃত্বে জেলা ছাত্রদলের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ ও মাসুদ রানাকে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়।
◾একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা শিকার হোন, হাসপাতালে যেয়েও চিকিৎসা নিতে পারেননি সেখানে পুলিশ তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালায়।
◾তাকে গ্রেফতার করতে না পেরে তার স্ত্রী ছোটবোনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়, ৪ঘন্টা আটক রাখা হয়।
◾মাসুদ রানাকে না পেয়ে তার শ্বশুরকে রাতে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
দিনের পর দিন ফেরারী জীবন কাটাতে হয়েছিল আওয়ামী দুঃশাসনে, সীমাহীন নির্যাতন অত্যাচারের পরেও মাথা নত না করা এক সংগ্রামী নাম মাসুদ রানা
রাজপথের আন্দোলনে মাসুদ রানার এই অনমনীয় ও অকুতোভয় ভূমিকা বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী মহলেও বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়:
- দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপ্রেরণা (২০১৫): ২০১৫ সালের উত্তাল আন্দোলন-সংগ্রামের সময়ে মুন্সিগঞ্জে রাজপথ ধরে রাখা ও সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরাসরি ভাইবারে (Viber) মাসুদ রানার সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি মাসুদ রানার ত্যাগের খোঁজখবর নেন, আন্দোলনের গতি ধরে রাখতে উৎসাহিত করেন এবং ভবিষ্যতে তাঁকে উপযুক্ত মূল্যায়নের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
- তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনা ও আস্থা (২০২৩): পরবর্তীতে তৎকালীন লন্ডন থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সফল নেতৃত্বদানকারী দলীয় শীর্ষ নেতা তারেক রহমান ২০২৩ সালে মাসুদ রানাকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করেন। তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলায় আন্দোলনকে আরও জোরদার ও বেগবান করার দিকনির্দেশনা দেন এবং আগামী দিনে দলীয় ও জাতীয় পর্যায়ে তাঁকে যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।
চরম অনিশ্চয়তা, মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির মধ্যেও কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত এই হাইকমান্ডের আস্থা ও নির্দেশনাকে সম্বল করে মাসুদ রানা রাজপথে দলীয় নেতাকর্মীদের থেকে বিচ্যুত হননি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রেখে রাজপথে উপস্থিতি নিশ্চিত করার এই ক্ষমতা তাঁকে মুন্সিগঞ্জ যুবদলের এক আস্থার প্রতীকে পরিণত করে।
৩. ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান
২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে পনেরো বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের প্রধান নিয়ামক। মুন্সিগঞ্জে এই গণআন্দোলনকে বেগবান ও সাফল্যমণ্ডিত করার নেপথ্যে স্থানীয় অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতাদের কৌশলগত সমর্থন ও প্রতিরোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সূচনা ঘটলে মুহাম্মদ মাসুদ রানা শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানান। তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলা যুবদল ও এর অধীনস্থ শাখাগুলোর নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঢাল হয়ে রাজপথে অবস্থান নিতে। মুন্সিগঞ্জে ছাত্র-জনতার যে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, তাতে স্থানীয় যুবদলের তরুণ কর্মীদের অংশগ্রহণে মাসুদ রানার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা ছিল একজন অপরেশনাল লিডারের মত।
ফ্যাসিবাদ উত্তর সমাজ গঠন ও জনকল্যাণমূলক সামাজিক উদ্যোগ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদ পতনের পর দেশে বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক শূন্যতার মুখে মাসুদ রানা কেবল ক্ষমতার রাজনীতিতে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের পথ পরিহার করে জনকল্যাণমূলক সামাজিক ও প্রশাসনিক সংস্কারমুখী পদক্ষেপে মনোনিবেশ করেন।রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মুন্সিগঞ্জ শহর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় যখন প্রশাসনিক স্থবিরতার কারণে মশার প্রাদুর্ভাব ও ডেঙ্গু রোগের ঝুঁকি দেখা দেয়, তখন তিনি নিজস্ব উদ্যোগে বিশেষ মশাবিশেষজ্ঞ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি হাতে নেন। মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার উত্তর ইসলামপুর, খালইষ্ট সহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় নিজস্ব তহবিল ও নেতাকর্মীদের শ্রম ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে ডেঙ্গু নিধন ওষুধ স্প্রে করা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মুহাম্মদ মাসুদ রানার জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সবচেয়ে দৃশ্যমান ও নাগরিক প্রশংসিত উদাহরণ দেখা যায়। মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার উত্তর ইসলামপুর বি ব্লকের নতুন সড়কের পাশে দীর্ঘ দিন ধরে পড়ে থাকা একটি দুর্গন্ধময় ঝোপঝাড় ও ময়লা-আবর্জনের স্তূপকে পরিবেশবান্ধব সবুজ চত্বরে রূপান্তর করেন তিনি। চার ধাপে পরিচালনা করা এই কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের জমে থাকা বর্জ্য পরিষ্কার করে মাটি ভরাট করা হয় এবং সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধ সুন্দর বৃক্ষ রোপণ করা হয়। তিনি এই কার্যক্রমে কেবল নিছক গাছ রোপণ করেই থেমে থাকেননি; বরং স্থানীয়দের এই গাছের নিয়মিত পানি দেওয়া ও যত্ন নেওয়ার কাজে উৎসাহিত করে কমিউনিটি ও নাগরিক মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেন। স্থানীয় নাগরিক ও সুধীজন তাঁর এই রূপান্তরমুখী সামাজিক নেতৃত্বকে অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণ করেন।
এছাড়াও, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করতে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মুন্সিগঞ্জে তাঁর উদ্যোগে একটি বিশাল ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়, যেখানে চিকিৎসা বঞ্চিত ও নিম্নআয়ের মানুষকে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা এবং ঔষধ সরবরাহ করা হয়। এই সকল কার্যক্রম এটিই প্রমাণ করে যে, ফ্যাসিবাদ পরবর্তী মুক্ত পরিবেশে শাসকসুলভ আচরণের বিপরীতে তিনি জনগণের সেবা ও সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে রাজনীতিকে পুনর্বিন্যাস করতে সচেষ্ট হয়েছেন।
সাংগঠনিক গতিশীলতা, পদ স্থগিতকরণ ও তৃণমূলের মনস্তত্ত্ব দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় মাসুদ রানাকে বিভিন্ন সাংগঠনিক উত্থান-পতন ও অভ্যন্তরীণ জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, যা তাঁর তৃণমূল গ্রহণযোগ্যতার এক বাস্তব পরীক্ষা হিসেবে সামনে আসে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়েই এবং কোনো কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ জারি না করেই মুন্সীগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব পদে থাকা মাসুদ রানার দলীয় পদ স্থগিত করে। এই স্থগিতাদেশ ৬ অক্টোবর প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদল।কিন্তু অজানা এক কালো ছায়ার হস্তক্ষেপে সে স্থগিতাদেশ মৌখিকভাবে তুলে দিলেও প্রেস রিলিজ দেবার ক্ষেত্রে নানা অজুহাতে কালক্ষেপন করেন কেন্দ্রীয় যুবদল।সেই ঘটনার ধারাবাহিক পরিস্থিতিই নির্বাচনে তাকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার ক্ষেত্র তৈরী করে যার ফলাফল পরবর্তীতে তার বহিষ্কারাদেশ।হয়ত পুরো বিষয়টি ছিল পরিকল্পিত।সে দলে থাকা অবস্থায় তাকে বাদ দিয়ে কমিটি দেয়া সম্ভব ছিল না বলেই কি এই ক্ষেত্র তৈরী করা হয়েছিল!প্রশ্ন থেকে যায়…
যদি সেদিন অন্যায়ভাবে সে স্থগিতাদেশ না আটকে রেখে তা প্রত্যাহার করা হতো তবে সে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে যেতেন না।ভুল যদি সে করে থাকে তবে সে ভুলের জন্ম যাদের জন্য তারা সে দায় এড়াতে পারেন কি!
মাসুদ রানার পদ স্থগিতের প্রতিবাদে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল সহ বিএনপি পরিবারের শত শত কর্মী রাজপথে নেমে এসে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। লক্ষণীয় যে, উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে শুধুমাত্র বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারাই উপস্থিত ছিলেন না; বরং সেখানে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় শীর্ষ নেতা।
নেতাকর্মী এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের এই যৌথ প্রতিরোধ প্রমাণ করে যে, স্থানীয় রাজনীতিতে মাসুদ রানার জনপ্রিয়তা কেবল দলীয় পদের ওপর নির্ভরশীল ছিল না, বরং তা ছিল তাঁর ব্যক্তিত্ব ও কাজের মাধ্যমে অর্জিত।
ভূ-রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা মুহাম্মদ মাসুদ রানার রাজনৈতিক গতিপথ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়ে যাত্রা শুরু করে তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে এসে ক্রমান্বয়ে ছাত্রনেতা থেকে একজন প্রজ্ঞাবান সংগঠকে পরিণত হয়েছেন। রাজনৈতিক সংগ্রামের কঠিন সময়ে প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি আস্থা অর্জন তাঁর নেতৃত্বের জাতীয় গুরুত্ব বহন করে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাজপথের ভয়হীন সংগ্রাম, গ্রেপ্তার ও রাষ্ট্রীয় হুমকির মুখে পিছিয়ে না যাওয়ার যে নজির তিনি স্থাপন করেছেন, তা মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মাঝে তাঁর গভীর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে।
একই সাথে, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের মতো একটি যুগের পরিবর্তনকারী গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের পক্ষে যে বলিষ্ঠ অবস্থান তিনি গ্রহণ করেছিলেন, তা তাঁর মধ্যে আধুনিক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সাক্ষ্য দেয়। আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ক্ষমতা দখলের চিরাচরিত পথ ছেড়ে পরিবেশ রক্ষা, বর্জ্য অপসারণ, স্থানীয় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের মতো দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে নিজেকে যুক্ত করা রাজনীতিতে এক ইতিবাচক নতুন সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে।
পদ স্থগিতকরণ ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক নানা সমীকরণের মধ্য দিয়ে যেতে হলেও তৃণমূল কর্মী, হাইকমান্ডের প্রতিশ্রুতি এবং জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের সাথে তাঁর নিবিড় আত্মিক যোগসাজশ নির্দেশ করে যে, মুন্সিগঞ্জের রাজনীতিতে প্রাতিষ্ঠানিক পদের বাইরেও তাঁর এক স্বতন্ত্র রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। আগামী দিনে মুন্সিগঞ্জ জেলায় জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পুনর্গঠন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার যে প্রক্রিয়া চলবে, তাতে মুহাম্মদ মাসুদ রানা একজন অন্যতম জনমুখী ও প্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে গুরুত্ব বজায় রাখবেন।
