নিজস্ব প্রতিবেদন; মুন্সিগঞ্জের আলো
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে ২০ বছর বয়সী এক তরুণের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা হয়েছে। ওই মামলায় অভিযুক্ত তরুণ মো. হামিদুর রহমানকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাঁর পরিবারের দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি নিয়ে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। গত ৯ আগস্ট প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বিয়ে করার বিষয়ে স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারও করা হয়েছিল।
তবে কিশোরীর বাবার অভিযোগ, গত রোববার রাতে হামিদুর তাঁদের বাড়িতে ঢুকে তাঁর মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ধীপুর ইউনিয়নের মটুকপুর গ্রামে। হামিদুরের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, তাঁদের মধ্যে এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত রমজান মাসে কিশোরী তাঁদের বাড়িতে চলে এসেছিল। তার বয়স কম হওয়ায় তাঁরা তাকে বুঝিয়ে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেন। পরে বিয়ের বিষয়ে চাপ তৈরি হলে গত ৯ আগস্ট হামিদুর তাঁর বড় বোন ও এক বন্ধুকে সাক্ষী রেখে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বিয়ে করার অঙ্গীকার করে স্ট্যাম্পে লিখিত দলিল করেন বলে পরিবারের দাবি। হামিদুরের বোন
ফেরদৌসী আক্তার বলেন, তাঁর ভাইকে পরিকল্পিতভাবে ফোন করে ডেকে নিয়ে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান। হামিদুরের মা অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেকে প্রথমে ডাকাতির অভিযোগে আটক করার কথা বলা হয়েছিল। পরে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করা হয়। তাঁর দাবি, তাঁর ছেলেকে মিথ্যা অভিযোগে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সজীব রায়হান বলেন, হামিদুর ও রাফিয়ার প্রেমের সম্পর্কের কথা তিনি জানেন। কয়েক দিন আগে পাশের লাখারণ এলাকায় তাঁদের একসঙ্গে ঘোরাফেরার সময় স্থানীয় লোকজন আটক করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। পরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নির্দেশে তাঁদের ছাড়িয়ে আনা হয়েছিল বলে জানান সজীব। অন্যদিকে
কিশোরীর বাবা সামসুল হক দেওয়ান বলেন, হামিদুরের সঙ্গে তাঁর মেয়ের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানার পর তাঁরা মেয়েকে শাসন করেছিলেন। এরপরও হামিদুর তাঁর মেয়েকে বিভিন্ন সময় বিরক্ত করতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সামসুল হক দেওয়ানের অভিযোগ, গত রোববার রাতে হামিদুর তাঁদের বাড়িতে ঢুকে তাঁর মেয়ের কক্ষে প্রবেশ করেন এবং তাঁকে জড়িয়ে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। প্রথমে ডাকাতির অভিযোগের কথা জানানো হলেও পরে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনার সময় তাঁর মাথা ঠিক ছিল না। তাই প্রথমে ডাকাতির কথা জানিয়েছিলেন, পরে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করা হয়।
ধীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকতার হোসেন মোল্লা বলেন, হামিদুর ও রাফিয়ার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল, তা তিনি আগে থেকেই জানতেন। তবে ঘটনার দিন কী হয়েছিল, তা তিনি জানেন না।
টঙ্গীবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হোসেন বলেন, ঘটনার দিন তিনি থানায় ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁকে ফোন করে ডাকাত আটকের কথা জানানো হলে তিনি বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানান। পরে ওসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসআই নুরুজ্জামান ঘটনাস্থলে যান।
টঙ্গীবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, তাঁকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ জানানো হয়েছিল। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এ বিষয়ে জবানবন্দি দেওয়া হয়। এরপর ধর্ষণচেষ্টার মামলা নিয়ে আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
